করোনায় বদলে গেল চিরচেনা দৃশ্যপট - Bangla news

গল্প

করোনায় বদলে গেল চিরচেনা দৃশ্যপট

করোনা প্রভাবিত এই দুর্যোগ সময়ে ঘরবন্দি থাকতে বাধ্য হচ্ছেন সবাই। প্রতিরোধের নিয়মটাই এমন। গণজমায়েত এড়িয়ে গৃহে অবস্থান। উৎসবমুখর, প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা সামাজিক সব অনুষ্ঠান পরিত্যাগ করে ‘দূরত্ব বজায়’ রাখার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। ব্যাকফুটে গিয়ে আপাতত বাঁচার এটাই উত্তম পন্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও সে কথাই বলছে। যান্ত্রিক সময়ের ব্যস্ত সব মানুষরা এখন ঘরবন্দি। জীবনাচারে এসেছে অনেক পরিবর্তন। চিরচেনা দৃশ্যপট বদলে গেছে। সামাজিক, অর্থনৈতিক সবকিছুতেই এসেছে পরিবর্তন-

পাল্টে গেছে বাজার পদ্ধতি
একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশের মানুষ বাজারে গেলে খালই (এক ধরণের বেত দিয়ে তৈরি) সঙ্গে নিয়ে যেতেন। এক খালইতে মাছ ও তরিতরকারি কিনে নিয়ে আসতেন। এর কিছুকাল পর চট ও কাপড়ের ব্যাগের প্রচলন শুরু হলো। আধুনিকতার ছোঁয়ায় খালই কিংবা কাপড়ের ব্যাগের ব্যবহার কমে গিয়ে সেই জায়গা দখল করে নিলো পলিথিন ব্যাগ। যা ক্রমেই পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ালো। নানাবিধ কর্মসূচি ও বিকল্পের সন্ধান বের করা হলেও পলিথিন থেকে এখনো আমরা একেবারেই বের হতে পারিনি। ঘুরেফিরে পলিথিন এসেছে বার বার। অথচ পরিবেশ বান্ধব খালই, চট কিংবা কাপড়ের ব্যাগ আর ফিরে এলো না। চেষ্টা করা হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু ব্যবহার বাড়ছে না। এখন করোনা সময়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার অথবা পলিথিনে বাজার করতে ইতস্তত প্রকাশ করছেন অনেকে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় মনোনিবেশ
ইসলাম ধর্মে আছে পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। ধর্মীয় আচারের পূর্ব শর্তই হলো পরিচ্ছন্ন বা পাক-সাফ থাকা। সব ধর্মই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার ওপর গুরুত্ব দেয়। মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের উপায় হিসেবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বাসা-বাড়ির মানুষগুলো এখন অনেকটাই এ বিষয়ে সচেতন। পরিচ্ছন্নতায় সময় দিচ্ছেন সবাই। স্বামী বিবেকানন্দ জাপানীদের ‘পৃথিবীর সবচেয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জনগণের অন্যতম’ বলে অভিহিত করেছেন। বৌদ্ধ ধর্মে রান্না আর পরিচ্ছন্নতা আধ্যাত্মিক বিষয় বলে বিবেচিত হয়।

বন্ধ সভা-সমাবেশ-গণজমায়েত
উন্নত বিশ্বে রাজনৈতিক নেতাদের যেখানে লোক সমাগম কম ঘটিয়ে যত দ্রুত সম্ভব বক্তৃতা, বিবৃতি শেষ করতে দেখা যায়, সেখানে আমাদের এই উপমহাদেশে বিশেষত বাংলাদেশে সভা-সমাবেশে লোক জড়ো করা বহু পুরনো একটা রেওয়াজ। কালক্রমে এখন তা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যিনি যত লোকের শোডাউন দেখা পারেন তিনি যেন তত বড় নেতা! করোনার প্রকোপে এখন অবশ্য একেবারেই উল্টো চিত্র। সভা-সমাবেশ বন্ধ থাকার পাশাপাশি বাড়তি লোকের কোনো সমাগম নেই কোথাও। বরং তা এড়িয়ে চলতে নানা ধরণের পরমার্শ দেয়া হচ্ছে। ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মসজিদে ওয়াক্ত নামাজে পাঁচজন ও জুম্মায় সর্বোচ্চ ১০ জনের বেশি মুসল্লি একসঙ্গে হওয়ার নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায়ও চলছে কড়া লকডাউন। সেখানেও ঘরের বাইরে তারাবি ও ঈদের নামাজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশেও এমনটি বলা হয়েছে।

ঘরে বসে উৎসব পালন
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, মহান স্বাধীনতা দিবস, পবিত্র শব-ই বরাত, বাংলার অসাম্প্রদায়িকতার চিরন্তন প্রতীক ‘বাংলা নববর্ষ’ উদাযাপন সবই এবার ঘরে বসে পালন করতে হয়েছে। প্রতিটি অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রী নিজে দেশের মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা স্মরণ করে দিয়েছেন। আগামীর কথা বলে আশা জুগিয়েছেন। এ এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।

সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ
বিপদে পড়লেই আমরা সাধারণত এই কাজটি করতে থাকি। করোনাকালে এখন প্রায়ই কোরআন, গীতা পাঠের সুর কানে ভেসে আসছে। দেশ স্বাধীনের আগে ও পরে অনেক হিন্দু-মুসলিম বাড়িতে এই ধর্মীয় আচার দেখা যেত। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চিত্র ফুটে উঠতো। পরবর্তী সময় দেশে সাম্প্রদায়িকতা, উগ্রতা বাড়লেও ধর্মীয় আচার সেভাবে বাড়েনি। প্রকৃত ধর্মাচারের জায়গা থেকে দিন দিন মানুষ দূরে সরে গেছে।  more

 

No comments:

Post a Comment

Tag Terpopuler

Pages